|
| বইয়ের নাম | : | প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ |
|---|---|---|
| লেখকের নাম | : | আরিফ আজাদ |
| বই ক্যাটাগরি | : | ইসলামি আদর্শ ও মতবাদ |
| প্রকাশনীর নাম | : | সমকালীন প্রকাশন |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | : | ২২৫ |
| সর্বশেষ সংস্করণ | : | ২০২০ |
| কাভার | : | পেপারব্যাক |
| ISBN | : | 9789849420309 |
| ভাষা | : | বাংলা |
| দেশ | : | বাংলাদেশ |
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ বইটির বৈশিষ্ট্য
ইসলাম কারও শত্রু হতে আসেনি। ইসলাম এসেছে মানুষকে ভুলে যাওয়া ওয়াদা স্মরণ করিয়ে দিতে, যে ওয়াদা আমরা প্রত্যেকেই দিয়ে এসেছি আল্লাহর কাছে রূহের জগতে। আমাদের আসল শত্রু ইবলিশ শয়তানকে চিনিয়ে দিতেই আল্লাহ্ পাঠিয়েছেন যুগে যুগে নবি রসূল। কিন্তু কিছু লোক সেই শত্রুকে ছেড়ে ইসলামকেই শত্রু হিশেবে নিয়েছে! এর পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, নষ্ট হওয়া ফিতরাতি বুঝ। সহজাত বিবেক যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেবার কথা অনায়াসে, সে বিষয়েই সে সংশয়গ্রস্ত বিভিন্ন যুক্তিতে। কখনো বিজ্ঞান, কখনো জাতীয়তাবাদ, কখনও-বা পশ্চিমাদের বুলির প্রতিফলন ঘটে তাদের মাঝে।
আপাদমস্তক এদেরকে যুক্তিবাদী মনে হলেও বস্তুত এদের অধিকাংশই স্রেফ বিদ্বেষ পোষণকারী। সত্য-মিথ্যার মানদণ্ডকে ঘুরিয়ে দেয়া, অতঃপর জেনে বুঝে ইসলামের সাথে শত্রুতায় লিপ্ত হওয়া—এটাই এদের উদ্দেশ্য। নাস্তিক্যবাদের আড়ালে এভাবে ইসলাম বিদ্বেষ লালন শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। তথাপি এদের কথার মারপ্যাঁচে পড়ে অনেক বুদ্ধিদীপ্ত যুবক-যুবতী ধরছে নাস্তিকতার পথ। এদের অনেকেই সত্য-সন্ধানী।
সত্যের প্রতি বিনয়ী সেই যুব সমাজের জন্য আরিফ আজাদ নিয়ে আসে এই বাংলার জমিনে ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’। গল্পের আঙ্গিকে, যুক্তি এবং বিজ্ঞানের আলোকে সংশয়বাদীদের মাঝে প্রচলিত সকল প্রশ্নের জবাব তিনি লিখেছেন বইটিতে। ইতিপূর্বে পাঠক সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এই বই। ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে মানুষ দলে দলে কেনা শুরু করে বইটি এবং সংশয়ের পথ ছেড়ে ইসলামের পথে ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ বইয়ের পিছনের কভারের লেখা
ঘুটঘুটে অন্ধকার! সেই অন্ধকার গ্রাস করে আছে সবকিছু। এমন সময় কোথা থেকে যেন ছুটে আসে এক উষ্ণ আলােক রশ্মি। সেই আলাের পরশে নিমিষেই মিলিয়ে যায় অন্ধকার রাত। প্রভাতী কিরণের মতােই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এই আলােক রশ্মি। যাত্রা হয় এক নতুন দিনের, নতুন সময়ের। এমনই আবহে সত্য ও পবিত্র পথের সন্ধানে দুঃসাহসিক অভিযাত্রার গল্প নিয়ে এগিয়ে যায় সাজিদ-আর অবিশ্বাসের দেয়ালে গেঁথে যায় বিশ্বাসের। কথামালা। ভেঙে পড়ে অবিশ্বাসের দেয়াল। নির্মিত হয় সত্যের ইমারত। সত্য আর শুভ্রতার সেই গল্পে আপনিও একজন অংশীদার...।
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২ বইয়ের সূচিপত্র
* কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে? ১৫
* A Reply to Christian Missionary- ২৫
* ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে?- ৪০
* কুরআনে বৈপরীত্যের সত্যাসত্য- ৫১
* বনু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড—ঘটনার পেছনের ঘটনা- ৬৩
* স্যাটানিক ভার্সেস ও শয়তানের ওপরে ঈমান আনার গল্প- ৮০
* রাসূলের একাধিক বিবাহের নেপথ্যে- ৯২
* জান্নাতেও মদ?- ১১৩
* গল্পে জল্পে ডারউইনিজম- ১২৫
* কুরআন কেন আরবী ভাষায়- ১৩৬
* সূর্য যাবে ডুবে- ১৫৩
* সমুদ্রবিজ্ঞান- ১৬৪
* লেট দেয়ার বি লাইট- ১৭৯
* কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা- ১৯৮
* নিউটনের ঈশ্বর- ২১৫
* পরমাণুর চেয়েও ছোট- ২২৫
* লেখক-পরিচিতি- ২৩৫
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ বই রিভিউ
কাহিনী সংক্ষেপ: লেখক প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-২ বইটিকে মোট ১৬ টি পর্বে সাজিয়েছেন। আমি সংক্ষিপ্ত আকারে কয়েকটি পর্ব তুলে ধরলাম। বইয়ের প্রথম অংশেই লেখক আপনাদের নিয়ে যাবে আলম ভাইয়ের টং দোকানে। সেখানে শবির ও বিমল দা'র প্রশ্ন ছিলো বনু কুরাইজা হত্যাকান্ড নিয়ে। রাষ্ট্রের কোনো ব্যাক্তি বা গোত্র দেশদ্রোহীতা করলে তাকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে? আচ্ছা, এর উত্তর কি আপনাদের কাছে আছে? না থাকলেও সমস্যা নেই। সাজিদের কাছে অবশ্যই আছে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে যে ব্যাখ্যা সাজিদ দিয়েছে তাতে আপনি অবাক হতে বাধ্য। চলুন এবার ঘুরে আসি ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে। সেখানে দেখা হয়ে গেলো মইনুল নামক ছেলের সাথে। সে খুব সুক্ষ কারনে নাস্তিক হয়ে গেছে। তার ধারনা কুরআনে নাকি পরস্পর বিরোধী তথ্য দেওয়া আছে। কিন্তু আফসোস সেখানে সাজিদ ছিলো। মাত্র কিছু সময়ের ব্যাবধানে সেই ছেলের ভুল ধারনা ভেঙ্গে দেয়। এ বারের ঘটনা ডেভিড কে নিয়ে। সে এসেছে তার খ্রিস্টান বন্ধু এলেন এর সাথে ক্রিসমাস ডে পালন করার জন্য। কিন্তু সে জানতো না এই অকেশনের পিছনের ইতিহাস। লুকায়িত কিছু সত্য সামনে চলে আসে।
ব্যাক্তিগত মতামত: বইটি সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে হয়তো শব্দ কম পড়ে যাবে। বইটি পড়তে গিয়ে মাঝেমাঝে খুব চিন্তা হবে, নাস্তিকদের অবান্তর কিছু প্রশ্নে রাগ হবে, কিছু কিছু জায়গায় সাজিদের নিরবতা আপনাকে রাগিয়ে তুলবে।
বইটি কেন পড়বেন: যদি প্রশ্ন করা হয় এই বইটি কেন পড়বেন? উত্তর হবে - নাস্তিকদের প্রশ্ন কতটা মনগড়া হতে পারে তা জানার জন্য, ইসলামকে নিয়ে মনের মধ্যে থাকা দ্বিধা দূর করার জন্য, অজানা কিছু সত্য জানার জন্য। আমার মতে বইটি প্রত্যেকের একবার হলেও পড়া উচিত। অন্তত ভুল ধারনাগুলো ভেঙে যাওয়ার জন্য। নিজেকে জ্ঞানকে আরেকটু ঝালাই করে নিতে চাইলে বইটি পড়তেই পারেন। আশা করি হতাশ হবেন না।
শেষকথন: একটি ভালো বইয়ের শেষ বলতে কিছু হয় না। বইটি যতবার পড়বেন ততবারই নতুন লাগবে। প্যারাডক্সিকাল সাজিদ বই দিয়েই আরিফ আজাদ'র বই পড়া শুরু আমার। শেষে কিছু কথা না বললেই নয় তাহলো, এই বইটি নিয়ে অনেক বিতর্কিত প্রশ্ন আছে। এ বইটি শুধুমাত্র নাস্তিকদের কিছু প্রশ্নের জবাব মাত্র। লেখকে কুরআন, হাদীস ও বিজ্ঞানের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
রিভিউ পাঠিয়েছেন: আয়েশা সিদ্দিকা
সাশ্রয়ী মূল্যে বইটির অরজিনাল কপি সংগ্রহ / অর্ডার করতে এখনই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।